April 8, 2026, 5:15 am

সংবাদ শিরোনাম
নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল

অবৈধ প্র্যাকটিস অব্যাহত রয়েছে প্রেষণে নিয়োগ কর্মকর্তাদের কাছে জিম্মি দেশের শিক্ষাবোর্ডগুলো

রুহুল আমীন খন্দকার ব্যুরো প্রধান :

mostbet

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডসহ দেশের সকল শিক্ষাবোর্ডে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রেষণ কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য চলছে। তারা শিক্ষামন্ত্রণালয়ে উৎকোচ দিয়ে নিয়োগ নিয়ে থাকেন বিধায় দায়িত্বগ্রহণের পর থেকেই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন বাণিজ্যে। এতে করে শিক্ষাবোর্ডগুলো যেমন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে তেমনি অবৈধ নিয়োগচর্চাও অব্যাহত রয়েছে। এতে করে বোর্ডে বিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে, বোর্ডে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আর প্রেষণের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে চলছে টানাপোড়েন। বাংলাদেশে বর্তমানে সাধারণ শিক্ষা বোর্ড (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) আছে ৯টি। এছাড়াও রয়েছে দুইটি বিকল্প শিক্ষবোর্ড মাদরাসা ও কারিগরি। সবমিলিয়ে ১১টি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে যার প্রত্যেকটিতেই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দখল করে আছেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। যারা তদবির করে অবৈধ প্রেষণ ম্যানেজ করেছেন।দেশের শিক্ষাবোর্ডসমূহ ১৯৬১ সনের অর্ডিন্যন্সের ৩৩ নং আদেশ অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সম্পর্ক কী হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে সেই বিষয়টি উল্লিখিত আছে ২০০৯ সালের এস্টাব্লিশমেন্ট ম্যানুয়েলের ভলিউম ২ এর ৭৭৪ এবং ৭৮০ পৃষ্ঠায়। সেই ম্যানুয়েল এবং অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ব্যতীত অন্যান্য সকল কর্মকর্তা বোর্ড কর্তৃক সরাসরি/পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য। শিক্ষাবোর্ডগুলোতে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত কেবল চেয়ারম্যান পদে শিক্ষামন্ত্রণালয় নিয়োগ দিতো। অন্যান্য পদগুলো সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হতো।কিন্তু ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডগুলোতে চেয়ারম্যানের পাশাপাশি অন্যান্য উচ্চপদেও শিক্ষামন্ত্রণালয় শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া শুরু করে, এখনো সেটি চলছে। যা ১৯৬১ সালের অর্ডিন্যান্স, ১৯৯৬ সালের সালের রুলস অব বিজনেস এবং ২০০৯ সালের এস্টাব্লিশমেন্ট ম্যানুয়েলের স্পষ্টতই লঙ্ঘন। এই অবৈধ বিষয়টি নিয়মে পরিণত হওয়ায় এখন কলেজে যারা শিক্ষকতা করছেন তারা পড়ানো বাদ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে প্রেষণে নিয়োগ নেয়ার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন।রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বোর্ডে চেয়ারম্যান, সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, কলেজ পরিদর্শক, বিদ্যালয় পরিদর্শক, উপ পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) পদগুলো দখল করে আছেন প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্তরা। যাদের কেবল অভিজ্ঞতা রয়েছে পাঠদানের। অথচ তারা এখন বনে গেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তাদের চেয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তা বোর্ডের রয়েছে। যাদের রয়েছে দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, কিন্তু তারা পদোন্নতি বঞ্চিত হচ্ছেন।বোর্ডের বিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নিয়মিত কর্মকর্তাদের দাবি, বোর্ডের নিয়মিত কর্মকর্তারাই প্রধানত সকল কাজ যেমন বোর্ডের আয় সংরক্ষণ, বাজেট প্রস্ততকরণ এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় খরচাদিসহ সরকারি সিডিউল মোতাবেক সকল পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ করেন। অথচ বোর্ডের নিয়মিত কর্মকর্তাদের কোনো কাজের স্বীকৃতি দেয়া হয় না। তাদেরকে সৃজনশীল ও গঠনমূলক কাজের সুযোগ দেয়া হয় না। কেউ করলে তাকে মূল্যায়নও করা হয় না। সকল স্বীকৃতি ভোগ করেন কেবল প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।অভিযোগ রয়েছে, প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভক্তিও রয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যে কোন্দলে লিপ্ত। তারা বোর্ডের কর্মচারীদের নিয়ে গ্রুপিং করে। এতে করে বোর্ডে কাজের পরিবেশ নষ্ট হয়। এছাড়া প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্তরা অস্থায়ী হওয়ায় তারা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করেন না। তারা বোর্ডের নিজস্ব কর্মকর্তাদের অবমূল্যায়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের হয়রানি, দুর্ব্যবহার করেন। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে এ নিয়ে বহুবার অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে।এ বিষয়ে প্রেষণে নিয়োজিত রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সনের অর্গানোগ্রামে সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, কলেজ পরিদর্শক, বিদ্যালয় পরিদর্শক ও উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) পদ প্রেষণে উল্লেখ আছে। ১৯৯৭ সালের অর্গানোগ্রাম অর্ডিন্যান্স ও সরকারি বিধিমালার মুল আইনের পরিপন্থী কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন সদুত্তোর দিতে পারেন নি। তিনি শুধু বলেন, সরকার ইচ্ছা করলেই দিতে পারে।রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, ১৯৯৭ সালের রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের প্রণীত অর্গানোগ্রামই অবৈধ। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকার প্রণীত আদর্শ প্রবিধানমালা ১৯৮৭ বিকৃত ও বিচ্যুত করে প্রেষণে কর্মকর্তা নিয়োগের বিশেষ ব্যবস্থা করে প্রবিধানমালা-১৯৯৭ প্রণয়ন করে অর্গানোগ্রাম তৈরি করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য তা প্রেরণ করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রবিধানমালা-১৯৯৭ অনুমোদন দেয় নি। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় সরকার প্রণীত আদর্শ প্রবিধানমালা ১৯৮৭ অনুসরণ করা হয় নি।খোরশেদ আলম আরো জানান, এছাড়া সরকার প্রণীত আদর্শ প্রবিধানমালা ১৯৮৭ এর আলোকে প্রবিধানমালা প্রস্তুত করার জন্য পরপর ৫ বার তাগিদপত্র দেয়া হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাজশাহী বোর্ডকে। একই সাথে অর্গানোগ্রামের একটি ছক নমুনা হিসেবে প্রেরণ করা হয়। তাতে প্রেষণে নিয়োগ বা পদায়নের কোন সুযোগ নেই। তারপও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড প্রেষণে নিয়োগের সুযোগ রেখে পুনরায় বিচ্যুত/বিকৃত করে প্রবিধানমালা-১৯৯৭ নামেই ২০০০ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও তা অনুমোদনের ব্যবস্থা না করে এক ধরনের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। সিনিয়র সহকারী সচিব সাবের হোসেন স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্র ইস্যু করে (স্মারক নং- শা:১১/৩(১৭) /২০০০/১৯৭ (১০) তারিখ- ১২/ ০২/২০০০) রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডকে নিয়ম মেনে প্রবিধানমালা তৈরি ও অর্গানোগ্রাম তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু ২০ বছরেও রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড তা আর করে নি। এই সুযোগে প্রেষণে বিভিন্ন পদে নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোকবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে চান নি। ব্যস্ত আছেন বলে বারবার বিষয়টিকে এড়িয়ে যান।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১৯ মার্চ ২০২০/ইকবাল

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর